স্বর্ণালী অক্ষরে লেখা তুমি 'ঋতুপর্ণ'
|🌹স্বর্ণালী অক্ষরে লেখা তুমি 'ঋতুপর্ণ'🌹|
-কল্যাণ অধিকারী
'ঋতুপর্ণ' নামটাই বোধহয় বাংলা সিনে দুনিয়ায় শেষ চারটি শব্দ 'ঋ-তু-প-র্ণ'। ইন্দ্রাণী পার্কের বাড়িতে পাঁচটি বছর চেয়ার টা রয়ে গেছে শূন্যতায় ভরে। ঘন ঘন চা খাওয়া ডাঁপ ওয়ালা পেয়ালা সেটাও সঙ্গীহীন। স্তব্ধ রয়েছে সাদা দেওয়ালে আটকানো এসি নামক যন্ত্রটি। চলছে শুধু একালের তথ্যচিত্র তাও বিজ্ঞাপনে মুড়ে।
দক্ষিণী সিনেমার কপি না করে, যৌনতার শিরশিরানি দূরে সরিয়ে, বড় পর্দায় আসে ঋতুপর্ণ'র বিনোদিনী। শুধুমাত্র সৃষ্টির গা ঘেঁষে অবয়ব থেকে যায় আদিম চিত্রনাট্য। এ কারণেই 'উৎসব' এনে দিয়েছিল জাতীয় পুরষ্কার। সিনে দুনিয়া ছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন সাবলীল ও সোজাসাপটা। ব্যক্তিগত পরিচয় কে সাহসিকতার সঙ্গে বলেছিলেন 'সমকামী'। বাস্তব হয়ত এ কথাই বলে শিল্পীর কোন জেন্ডার হয় না...
কলম ধরলে কানে গুনগুন করে "পাগল মন মন রে, মন কেনো এতো কথা বলে।" বলবেই তো দেশ বিদেশের একাধিক নামকরা অভিনেতা-অভিনেত্রী মুখিয়ে ছিলেন ওই 'ঋতুপর্ণ' নামটার সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে দিতে। একটি দুটি নয় ১২টি জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া কোন পেশাগত মানুষের জীবনে ঘটেছে কি? তাও মাত্র ৪৯ বছরে আমার অন্তত জানা নেই ওস্তাদ। এ কারণেই ছোটবেলায় ঠাকুমা দাদু বলতেন ভালো মানুষদের মৃত্যুর পর কালো রঙা আকাশের বুকে উজ্জ্বল 'তারা' হয়ে মিঠে রশ্মি দেয়।
নাক উঁচু মানুষেরা বলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আন্দোলন শেখায়! না ওস্তাদ না যাদবপুর ঋতুপর্ণ ঘোষ-এর মতন মানুষ তৈরি করে। ওই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক সময় অর্থনীতির পাঠ নিয়েছিলেন। পরিচালক জীবনে কতটা সফল উইকিপিডিয়া জ্বলজ্বল করে দেখিয়ে দিয়েছে একের পর এক চলচ্চিত্রের নাম দিয়ে। 'হীরের আংটি', 'উনিশে এপ্রিল', 'দহন', 'উৎসব', 'শুভ মহরত', 'চোখের বালি', 'চিত্রাঙ্গদা দ্য ক্রাউনিং উইশ', 'সত্যান্বেষী'। দম শেষ করবার পরেও বেশ কয়েকটি নাম বাকি থেকে গেল।
বাংলা সিনেমায় দর্শকের ভালোবাসায় 'ঋতুপর্ণ ঘোষ' আজও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। থেকেও যাবেন শতাব্দী পার করে স্বর্ণালী অক্ষরে। একটি করে ৩১ অগাস্ট আসে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বহন করে ফিরে যায়। শুধু যাবার আগে নব্যনির্মিত পরিচালক দের স্মৃতিচারণ করে।
'শুধু তুমি চাও যদি সাজাব আবার নদী
এসেছি হাজার বারণে
শুধু তোমারই জন্য'।
©-কল্যাণ অধিকারী
চিত্র গুগল।

Comments
Post a Comment