স্বপ্না, তোর লড়াইকে স্যালুট জানাচ্ছে এক দাদা


|🌸স্বপ্না, তোর লড়াইকে স্যালুট জানাচ্ছে এক দাদা🌸|

-কল্যাণ অধিকারী

বোন স্বপ্না,
তোকে তুই বলেই সম্বোধন করছি। তোর সাফল্যের জন্য বড্ড খুশি রে আজ। সকলের মুখেমুখে একটাই নাম 'স্বপ্না'। তোর সৎ-নিষ্ঠাবান রিকশা চালানো বাবা, চা বাগানের পাতা ছিঁড়ে আনার কাজ করা মা, উঠোনের এক কোনে ইষ্ট দেবতার পাশে তুলসীগাছ, স্কুলের দিদিমনি সকলের স্নেহলতার জন্যই তুই এমন সাফল্য'কে ছিনিয়ে আনতে পেরেছিস। হৃদয় ছুঁয়ে গেছে রে।

ভরা বর্ষায় টিনের ছাউনি ঘর নড়ে যায়। সকাল-সন্ধ্যা বিছানা শয্যা বাবা সঙ্গে ওতপেতে থাকা দারিদ্রকে দেখেই চোয়াল শক্ত করেছিস। লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছিস। এমন মেয়ে সোনা পাবেনা তো কে পাবে বল তো। শুধু রাজ্যের নয় আজ তুই দেশের গর্ব। রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক বসিয়ে সবদিক দিয়ে নতুন সকালের সূচনা করেছিস 'স্বপ্না'।

চা বাগানে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পরা মানুষজন রোজগারের জন্য অজান্তেই দেহ ব্যবসায় নাম লেখায়। খবরের কাগজে জমিয়ে লেখা হয় সেই সব আখ্যান। তাদের নতুন দিশা দেখাবে বোন স্বপ্না তোর এই সাফল্য। নিঝুম ভোররাতে নিস্তব্ধ পাড়ায় ঝিঁঝিঁ পোকা ডাককে পিছনে ফেলে তুই ছুটে চলবি আগামীর দিকে। হয়ত তখন বিছানায় ছটফট করবে তোর অসুস্থ বাবা, পাশে ঠায় বসে স্বজন চিন্তায় বিনিদ্র কাটানো মা।

তোর সাফল্য দেখে চৌকিতে রাখা টিভির সামনে বসে আঁচলে চোখ মুছছে মা। এই সকালটাই দেখতে চেয়েছিল যে। স্বামীর চিকিৎসা ও মেয়ের পড়াশোনার খরচ মেটাতে চোখের কোনে অজান্তেই সংসারের কালী লেপেছে। তবুও চা পাতা ছিঁড়ে রাতে স্বপ্নে মেয়েকে সোনা হাতে দেখেছে। চিৎকার করে বলতে শুনেছে 'মা আমি পেরেছি। বাকিদের পিছনে ফেলে প্রথম হয়ে সোনা ছিনিয়ে এনেছি'। সেই চিত্রনাট্য এবার চোখের সামনে৷ জাতীয় পতাকা হাতে হাসিমুখে দু মুঠো খাওয়া ঘরের শ্যামলা মেয়েটা।               

©-কল্যাণ অধিকারী

চিত্র গুগল।

Comments

Popular posts from this blog

গল্প যখন সত্যি তৃতীয় পর্ব

শরৎচন্দ্রের বাড়ি একদিনে'র গন্তব্য

শান্ত দামোদর, পাখিদের কলকাকলি, বাড়তি পাওনা ভারতচন্দ্রের কাব্যতথ্য