পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাসের রক্তচক্ষুর প্রতিবাদে সেই কংগ্রেস এবার ভারত বনধে কি হবে এ রাজ্যে আদৌ কি প্রভাব পড়বে!
পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাসের রক্তচক্ষুর প্রতিবাদে সেই কংগ্রেস এবার ভারত বনধে
কি হবে এ রাজ্যে আদৌ কি প্রভাব পড়বে!
-কল্যাণ অধিকারী
শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাসের দাম! এ প্রশ্ন এখন আমজনতার মুখে মুখে। প্রায় নিয়ম করে প্রতিদিন মহার্ঘ হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে রান্নার গ্যাস। একপ্রকার মুখ বুজে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবার। কিন্তু এভাবে কতদিন আর চলা যায়। সেই অর্থে বৃদ্ধি হচ্ছে কি দিন-রোজকার মাইনে ? সুরাহা দিতে পারছে কোথায় দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার। উল্টে শতক ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে পেট্রোল-ডিজেল।
বেশ কয়েক বছর পর পেট্রোল-ডিজেল এর মত ইস্যু কে সামনে রেখে কিছুটা হলেও গা নাড়া দিয়ে উঠতে চলেছে জাতীয় কংগ্রেস। ইদানিং সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিজেপির প্রায় সমস্ত বিষয় বিরোধিতা করা হচ্ছে। নয়তো টুইট করছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এবার পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি ডাক দিল ভারত বনধ। আগামী সোমবার গোটা দেশ বনধের তালিকায় থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ইউপিএ-২ সরকারের আমল থেকে পেট্রোল-ডিজেল ঊর্ধ্বমুখী। সে সময় তৃণমূল ইউপিএ-২ থেকে সরে এসেছিল। এবার সেই কংগ্রেস বনধ ডাকছে পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। চোখ চাওয়া-চাওয়ি করছে অনেকে।
শুধুমাত্র একটা বনধ করলেই সুরাহা হবে! রাতারাতি কমে যাবে দাম! পাম্পে গিয়ে কম দামে ট্যাঙ্ক ভরে পেট্রল-ডিজেল নিয়ে বাড়ি ফিরবে! এমনটা না হলেও দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার কে এ বিষয় নিয়ে সচেতন করে দেবার প্রয়াস। দেশের সব রাজ্যে কংগ্রেসের পূর্বের মত প্রভাব আর নেই। তবুও বন্ধ ডাকা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আদৌ বনধকে সফল করে তুলবে সাধারণ মানুষ! তবে পেট্রেল, ডিজেল ও গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে বনধ ডেকে লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী জোটের হাত যে শক্ত করতে চাইছে এটা ভূ-ভারত বুঝে গিয়েছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সব ধরনের বনধ-হরতালের বিরুদ্ধে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ডাকা বনধ এ রাজ্যে সফল হওয়া নিয়েও সংশয়। উল্টোদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস এখন গঙ্গা ভাঙ্গনের মত জীর্ণ। অধীর চৌধুরী ও আব্দুল মান্নান দুই গোষ্ঠী দুই মেরুতে। বনধ ইস্যুতে অবস্থান বদলে একত্রে আসবে অধীর চৌধুরী ও আব্দুল মান্নান এমন প্রশ্নও নেই? অন্যদিকে বছর ঘুরলেই বিগ্রেড সভা করবার কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর বিগ্রেডে বিশাল সমাবেশ করবে তৃণমূল। সেখানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপ্রিমো দের সাথে আমন্ত্রণ জানানো হবে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী কে এমনটাই খবর ঘাসফুল শিবিরের। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা রেখে চলার পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস।
কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর ভারত বনধের দিনে কি অবস্থান নেবে বাংলার শাসক দল? পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে আম জনতার কষ্টের কথা বুঝে বনধের বদলে বড়জোর ও দিন মিছিলে পা মেলাতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস! সেক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যাবে। আবার দশ জনপথের সঙ্গে সখ্যতাও বজায় থাকবে।
©-কল্যাণ অধিকারী
চিত্র গুগল

Comments
Post a Comment