লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডার থেকে ভুবন'কে খুঁজবে না অখন্ড কালিকাপ্রসাদ-এর সুর



|লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডার থেকে ভুবন'কে খুঁজবে না অখন্ড কালিকাপ্রসাদ-এর সুর|

-কল্যাণ অধিকারী

সময় বলে, এই শহরে নাকি কফিহাউস ব্যতীত হয় না আলোচনা সমৃদ্ধ। পোস্টার লেখা না থাকলেও ফোক সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত শুনতে শহীদ এক্সপ্রেসে চেপে ছুটতে হয় শান্তিনিকেতন! কিংবা ফাগুনের তপ্ত বিকেলে গালে আবির মেখে গীটারের সুর তোলা গড়ের মাঠ। সম-সময়ে যতই ডিজের ঝঙ্কারে মাতুক সমাজ। মাদলের সুরে "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দিব না" মাতোয়ারা আজও হয় শহরের ময়ূর কুঞ্জ।


এই তো বছর দেড়েক আগের কথা। একটি জনপ্রিয় ছোট পর্দার অনুষ্ঠানে কালিকাপ্রসাদ মহাশয় কিভাবে ছোটদের তালিম দিয়েছেন। দেখেছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে দেশের প্রতিটা বাঙালি। শিখেছে সঙ্গীতের 'সা রে গা মা পা'। নব প্রজন্মের কাছে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করে আদপে "গান গাই আমার মনরে বুঝাই” বোঝাতে চেয়েছেন। ছোটরাই তো আগামি'র ভবিষ্যৎ। হয়ত তাদেরকেই চেয়েছেন লোকসঙ্গীতের আসরে তুলে আনতে। ওদের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ সমাজে লোকসঙ্গীতের প্রসার ঘটাতে চেয়েছেন। তুলে ধরতে চেয়েছিলেন জীবনের প্রাত্যহিক প্রতিবিম্ব। বোঝাতে চেয়েছেন সঙ্গীতের আজও শুরু রাঙামাটির দেশে। তালডাংরা ও বেলানের সুরে বেজে ওঠে লোকসঙ্গীতের আদিমতা বোল।


আমার শহর মনে রাখে ক্ষ্যাপা বাউলকে। মনে রাখে নিশিকান্ত'কে। আবার মনে রাখে সুমনের বাস্তবিক কথা। এই শহরের প্রতিটা রন্ধে রয়েছে বাউলের সুর, লোকসঙ্গীতের বিচ্ছুরণ। রবিঠাকুরের চিত্রকথা যেমন ছাপা হয়েছে পাণ্ডুলিপি আকারে। আবার কদাপি এসে পরে কালিকাপ্রসাদের মত মাটির মানুষ। যার পরম স্পর্শে এপার বাংলা-ওপার বাংলা এক হয়ে যায়। মিলে মিশে যায় খেয়াপারের সুর। ভুবন মাঝি'র খেয়ার শব্দ কেবলি রেকর্ড থাকা ক্যাসেটে বেজে উঠবে না। হৃদয়ে ভেসে থাকবে গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত সব ঋতুতেই। সুরের জলসাঘর আগামীকালও ম ম করবে রজনীগন্ধার গন্ধে। খুঁজে বেড়াবে একালের ফোক পাগল কালিকাপ্রসাদ কে।

©-কল্যাণ অধিকারী

Comments

Popular posts from this blog

গল্প যখন সত্যি তৃতীয় পর্ব

শরৎচন্দ্রের বাড়ি একদিনে'র গন্তব্য

শান্ত দামোদর, পাখিদের কলকাকলি, বাড়তি পাওনা ভারতচন্দ্রের কাব্যতথ্য