মায়ের কাছে সন্তান যাবে তার আবার কৌশিকী
|মায়ের কাছে সন্তান যাবে তার আবার কৌশিকী|
-কল্যাণ অধিকারী
আমরা যারা তারা মায়ের শক্তিপীঠে আসি। শহীদ এক্সপ্রেস চেপে বাউল গান শোনার মাঝে রবিঠাকুরের গন্ধে ভিজে পৌঁছে যাই রামপুরহাট। পছন্দের সওয়ারী চেপে তিরিশ-চল্লিশ টাকা দিয়ে তারাপীঠ। বাকিটা সময় পুজো দেওয়ার ফাঁকে 'জয় তারা মা'- 'জয় তারা মা ' চিৎকার করে একদম মায়ের গর্ভগৃহে। মায়ের পানে তাকিয়ে 'অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে প্রভু'।
তবুও টিভি ওয়ালা ক'দিন কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে চিৎকার করে চলেছে। মা কি সন্তানের কথা বাকিদিন শুনবে না ! অবোধ সন্তানের কথা মা বাকি সন্তানদের থেকে আগে শোনে। তার মুখে একটা চামচ চরণামৃত ছোঁয়ালেই শেষের দিন মুছে নতুনের শুরু। নইলে অনুব্রত বাবু মশাইয়ের মতো মানুষ মায়ের সামনে কেঁদে ফেলেন। এটাই মায়ের মমতা। অধমের কেষ্ট সৃষ্টির স্রষ্ট্রা।
একবার তারা মায়ের চরণে পৌঁছে গেলে, গায়ে শ্মশানের ছাই মেখে বামাক্ষেপা না হলে মন হয় না তুষ্ঠ। মজে যাওয়া দ্বারকা নদীর ধারে হোটেলে বসে বাকিটা সময় পবিত্র তীর্থক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা। শহর ও সংসার ছাড়াও বাকি রয়েছে মায়ের অন্তরের ভালোবাসা। শুধুশুধু কি কথিত আছে 'পাগল মাকি তোর একার মা যে বিশ্ব ব্রম্ভাণ্ডের'। নইলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে গুটি পায়ে এগিয়ে চলে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা।
ভক্তের ভগবান তাঁকে দেখতে এসেছি, প্রাণ খুলে কিছু কথা শোনাতে এসেছি, তাও টাকা দিয়ে তাড়াহুড়ো করা! মায়ের কাছে দু'দন্ড চোখটা না ভেজালে মনের খচখচানি থেকেই যায়। কষ্টের কথা তো শুধু উনিই জানেন। সবশেষে মাকে দেখে মনটা প্রশান্তির খুশিতে ভরিয়ে মন্দির ছাড়া। কানে বাজছে 'তুম কিতনি আচ্ছি হো, তুম কিতনি ভোলি হো, প্যায়ারি প্যায়ারি হ্যায়, ও মাআ ও ও ও মা....
রাঙ্গা মাটির স্পর্শ মাথায় ঠিকিয়ে এবার না হয় ফেরা। শত সাধনার শক্তিপীঠ রয়ে গেছে ভক্তের বিশ্বাস, শ্মশানের পবিত্রতা, হৃদয়ের আবেগে। মুঠোফোনে দেবীর দুটি রূপোর পাদপদ্ম, গর্ভগৃহে ছবি পাশ-পাশ করে দেখে নেওয়া। হিন্দু ঘরের ছেলে মার্তৃ আরাধনায় পিছিয়ে থাকে না। বরঞ্চ সাধন তত্বে জীবন ব্যয় করে দিতে সমর্থ। এটাই তো তারা মায়ের চরণে ছুটে যাওয়ার মূল মন্ত্র।
©-কল্যাণ অধিকারী
চিত্র সাম্প্রতিক প্রকাশিত কিছু পত্রিকা থেকে নেওয়া।





Comments
Post a Comment