কাঁচের জানালার আড়ালে
-কল্যাণ অধিকারী
রাতের রাজপথে বহুচেনা লাবণ্য,
জ্বলছে শোভনীয় ত্রিফলা।
বহুতলে শুয়ে বিলাসমণি রাজা রানী,
ফুটপাথে শুয়ে প্যাকেট জড়ানো ভ্রুণটা।
এ শহর পচা মাংস খেয়ে অনায়াসে ভুলে,
ভিড় করে ওই বড়লোকি পাবে।
ভেজাল খেয়ে সুখ নেই বড়কর্তারে,
পরকীয়ায় মগ্ন মাধবীলতা ফ্ল্যাটে।
খোঁজ নেই বান্ডিল বিলানো নারদ বাবুর,
ভোট আসলেই ডাক পড়ে কালু ভুলুর।
বাকি সময় যেই কে সেই,
ডিজেল ভায়া আশি, পেট্রোল নব্বইয়ে সই।
অকেজো টেলিফোনের পাশে ঠায়,
অপেক্ষায় যৌবন হারানো বেলা বোস।
অঞ্জন তো বলেই খালাস,
খোঁজ নেয় নি তো আজ অন্য কেউ?
দুর্গা দেখার অপেক্ষায় নচিদার বৃদ্ধাশ্রম,
জায়গা অনেক বেশি ঘরটা তো ছোট,
ছেলে আসে না আর দেখতে মাকে,
যায় শুধু ভক্তি নিতে বৃন্দাবন।
ট্যাক্সি কিংবা অচেনা গাড়ি দেখলেই
তেড়ে যায় নেড়ি কালো মা,
হয়ত ওই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়েই
প্রাণ গেছে পরিবারের কোনও পোলার।
শেষ রাতে হলুদ সিগন্যাল দপদপ জ্বলে
বিলাসবহুল গাড়ি দাঁড়িয়ে শুধু নড়াচড়া করে।
এ শহরে সবি হয় কাঁচের জানালার আড়ালে,
সকাল হলেই গঙ্গা মা দেয় পবিত্রতায় ধুয়ে।
©-কল্যাণ অধিকারী

Comments
Post a Comment