তোমাদের রাখা মৃত্যু কেড়েছে আমায়
|🍂শিশু টির মৃত্যু বিচার করবে কে🍂|
-কল্যাণ অধিকারী
সকাল থেকে চোখটা আটকে ওই শিশু টির দুটি চোখে। বোমার আঘাত শরীরে এঁকে এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল বাকিটা সবাই কমবেশি জেনে গিয়েছে।বাঙালি আজও মনে করে এক বিপ্লবী শেষ হয় শত বিপ্লবীর জন্ম দিয়ে। ছোট্ট ছেলেটি শুনেছে বোধহয় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মাস্টারদা সূর্যসেন, বিনয়-বাদল-দীনেশ, বিপ্লবী রাসবিহারী বসু'র মতো মনীষীদের নাম। প্রত্যেকে অমরত্বের রচনা রেখেছেন। কিন্তু শিশুটি ! যাকে চলে যেতে হয়েছে আন্দোলন শুরু করবার আগে।
ওর বেলায় ?
বোমার দৃশ্যটি বোধহয় কোনও দক্ষিণী সিনেমার টানটান চিত্রনাট্য কে হার মানায়। দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার কাজ করা প্রবীণ মানুষটিও শিউরে গিয়েছেন। এ শহর আন্দোলনের পীঠস্থান। সংস্কৃতি চর্চার বটবৃক্ষ। কফি হাউসের চর্যাপদ। মহাকরণ অভিযানের ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর রক্তের ছিটে লাগা রাজপথ। ভাগীরথীতে নিপাত যাওয়া একটা আস্ত বামফ্রন্ট সরকার। পঞ্জি স্কিমে টাকা খোয়ানো লাখো মানুষের বুক ফাটা হাহাকার।
তবুও অস্থিরতা কমে নি। শেষ হুঙ্কার তুলে ধসে যায় সেতু। বেচারা ফুচকাওয়ালার ফোন থেকে বুক করে চুরি হয়ে যায় ওলা। ঝকমকে আলোয় পশুপাখির রাতের ঘুম কেড়েছে উন্নয়ন। যশোর রোডের উপর দুই শতকের গাছের ফাঁসি হয় কেন্দ্রীয় বিকাশ। মেডিক্যাল জ্বলে ওঠে বাগড়ি'র স্মৃতি উস্কে। ছোট্ট খোকা রিমোট হাতে কার্টুন দেখা'র অধিকার খর্ব হয় দুস্টু দাদা-কাকাদের রেখে যাওয়া বোমার আঘাতে।
এ শহর জানে শুধু কাঁদ তে। বুক ফাটিয়ে লড়াইয়ে নামতে। সে লড়াই জাতিকে টিকিয়ে রাখার। ধর্মকে সহিষ্ণু করবার। বিদেহী আত্মাকে ভৌত করবার জন্য। হাসপাতালে আইসিইউ রয়েছে কি, তা থাকলেও আপতকালিন ব্যবহারের জন্য খালি আছে কি? হয়তোবা কোনও মুমূর্ষু শিশুকে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে ব্যবহৃত রয়েছে ওই আইসিইউ টি! নন্দনের পাশে সিগারেটের কাউন্টার টানা আন্দোলন, চ্যানেলে বাইট দেওয়া বুদ্ধিজীবী এবারও মোমবাতি ধরবেন। বিচারের বাণীকে তুলে ধরতে। সরকার নড়ে উঠবে। হাসপাতালে আইসিইউ খালি রাখার প্রতিশ্রুতি মিলবে! কিন্তু ওই শিশুটি কি শহীদ উপাধি পাবে! নাকি গোয়েন্দা দের ব্যর্থতার পুরস্কার পরিবার পাবে?
শহরে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রম। কমছে ফ্ল্যাটে বয়স্কদের স্থান। মুঠোফোন সকাল-সন্ধ্যে করছে কল্যাণকর। দামী হচ্ছে বিমানের টিকিট। লম্বা অপেক্ষার পরেও রিজার্ভেশন মেলা দুষ্কর। পেট্রল-ডিজেল-গ্যাস আরও মহার্ঘ। ঘুঁটে-কাঠ- সাইকেলে ফিরবে মধ্যবিত্ত। বৃষ্টির চাতুরি কোথাও বন্যা তো কোথাও ফুটিফাটা জমি। কৃষিতে মন্দা। ফলাও বিজ্ঞাপন তলানিতে পরিষেবা। মিডিয়ার সামনে কাঁদছে পিতা। শোনাচ্ছে ছেলের শেষ আর্তি।
বাবা, আমার সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে বাবা, একটু জল দেবে?
তুঝে সব হ্যায় পাতা, হ্যায় না মা,
তুঝে সব হ্যায় পাতা মেরি মা,,,
©-কল্যাণ অধিকারী
★চিত্রটি আজকে প্রকাশিত পত্রিকা থেকে নেওয়া। এডিট করা।
★কাউকে আঘাত দিতে বা জ্ঞান প্রদর্শন করতে লেখা নয়। একান্ত ই বিবেক গর্জে ওঠা লেখা।

অসাধারণ লিখেছেন। বলার আর কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।
ReplyDeleteভীষন দুঃখজনক।
ReplyDelete